আজ ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

করোনাকালীন সময়ে কর্মীবান্ধব নিরাপদ কর্মক্ষেত্র প্রস্তুত করণ

 

লেখক: ডা:আমিনুল ইসলাম

এমবিবিএস,ডিসিএইচ(অস্ট্রেলিয়া),এম •এস রেসিডেন্সী (কোর্স )শিশু সার্জারী
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ,ঢাকা শিশু হাসপাতাল,ঢাকা
প্রতিষ্ঠাতা, করোনা রিসার্চ এন্ড প্রিভেনশন ফাউন্ডেশন(সিআরপি ফাউন্ডেশন)

২০২০ সালের জানুয়ারী মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কোভিড -১৯ নামক একটি নতুন ধরনের করোনো ভাইরাস জনিত রোগের
প্রাদুর্ভাব ঘষোণা করে,যার সূচনা হয় চীনের উহান প্রদেশে।। এই রোগটি বাংলাদেশে ইতিমধ্যে উচ্চ মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ( WHO) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রনের জন্য কাজ করছে তবে দীর্ঘ মেয়াদী সাফল্য এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়নি।এই রোগ বিস্তার রোধের সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী লকডাউন ও কঠোরভাবে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখা।কিন্তু বাংলাদেশের মত জনবহুল,অসচেতন ও ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশে এর কোনটায় কার্যত ফলপ্রসু হচ্ছে না। আর এই জন্যই হয়তো আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকরা অর্থীনিতির চাকা সচল রেখে করোনা ভাইরাসের প্রভাব কমিয়ে রাখার বিকল্প রাস্তায় হাঁটতে চাচ্ছেন। আর তাইতো আইইডিসিআর এর তথ্যমতে প্রতিদিনই যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে তখনও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী খুলে দেওয়া ,রেস্টুরেন্ট খুলে দেওয়া,শপিংমল খুলে দেওয়ার মত অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।জানিনা নিতিনির্ধারকরা কি বুজছেন ।হয়তোবা করোনার প্রভাবের থেকে করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক মান্দার প্রভাব আর ও ভয়ঙ্কর হবে ধরে নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।আবার করোনা যে খুব দ্রুতই দেশ থেকে বিদায় নিবে এমনটি ও ভাবার কোন কারণ নাই।করোনাকে বিদায় দেয়ার জন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে এর বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত।ততদিন পর্যন্ত টিকে থাকতে হলে করোনার সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করেই টিকতে হবে।পাশাপাশিএই রোগের বিস্তার রোধ করতে হলে ব্যাবসায়ী
চাকুরীজিবীসহ সমাজের
সর্বস্তরের মানুষকে অবশ্যই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। আর এই জন্যই আমার আজকের এই কলামটি লিখতে বসা।
কোভিড-১৯ যেভাবে ছড়ায়:
কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর হাঁচি, কাশির মাধ্যমে রোগটি সংক্রমিত হয়ে থাকে। । হাঁচি ,কাশি,থুতুর মাধ্যমে রোগটির
জীবাণু নিকটবর্তী কোন বস্তুর পৃষ্ঠতল – যেমন ডেস্ক,টেবিল,দরজার হাতল বা টেলিফোন/মোবাইল ইত্যাদির উপর পরে যা সহজেই মানুষের হাতের সংস্পর্শে আসে, পরবতর্তীতে এই জীবাণু যুক্ত হাত দ্বারা চোখ, নাক , মুখ স্পর্স করার মাধ্যমে তারা
আক্রান্ত হতে পারে। আবার যারা কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যাক্তির এক মিটারের মধ্যে অবস্থান করে , তারাও
হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছিটকে আসা ক্ষুদ্র কণার সাথে মিশ্রিত জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। । কোভিড-১৯ এ
সংক্রমিত হলে বেশিরভাগ ব্যাক্তি হালকা/সাধারণ লক্ষণ গুলো অনুভব করে এবং নিজ থেকেই সুস্থ হয়ে যায়।
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থতা লক্ষ করা যায় এবং হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত ৪০ বা তদোর্ধ্বো বয়সের রোগী ,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন রোগীর (যেমন- ক্যান্সার, ডায়াবেটিস,হৃদরোগে
এবং ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি) ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা বেশি।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই মূল উপায়গুলোর আলোকে আজ আমি আলোচনা করব কোভিড -19 সংক্রমনের এই সময়ে কিভাবে একটি নিরাপদ,কর্মীবান্দব কর্মস্থল গঠন করা যায়।এক্ষেত্রে কর্মস্থলকে দুইভাগে ভাগ করবো।প্রথমে আসা যাক যে সব
কর্মক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েনি সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ তাদের নিজ কর্মক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করবেন:
☆ কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর কিনা তা নিশ্চিতকরণ :
জীবাণুনাশক দিয়ে ডেস্ক ও টেবিলের পৃষ্ঠতল ,দরজার হাতল এবং নিত্য ব্যবহার্য বস্তু যেমন ( যেমন -টেলিফোন,কিবোর্ড )নিয়মিত মুছতে হবে।কেননা পৃষ্ঠতলে থাকা জীবাণু দ্বারা সহজে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।
☆ কর্মচারী,ঠিকাদার ও গ্রাহকদের নিয়মিত ও যথাযথভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস করানো:
সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া,কেননা সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত করলে করোনা ভাইরাস ধ্বংস হয় এবং
কোভিড- ১৯ এর বিস্তারে বাধা সৃষ্টি হয়॥
☆ কর্মক্ষেত্রের প্রবেশপথ বা আশেপাশে সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার ব্যাবস্থা করা।
☆ সঠিকভাবে হাত ধোয়ার নির্দেশনা সম্বলিত পোষ্টার দৃষ্টিগোচর স্থানে প্রদর্শন করা এবং স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রশাসনের সাহায্য নেওয়া। ☆ হাত ধোয়ার ব্যাপারে কর্মীদের উৎসাহিত করার জন্য জনস্বস্থ্য কর্মকর্তার দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা।
☆ কর্মক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত স্বস্থ্যবিধি প্রচর করা:
☆ শ্বাস প্রশ্বাস জনিত পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে পোষ্টার প্রদর্শন, কেননা শ্বাস- প্রশ্বাসের পরিচ্ছন্নতা কোভিড- ১৯ সংক্রমন রোধ করে॥
☆ শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত উৎসাহ প্রদানের জন্য কর্মক্ষেত্রে পেশাদার জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তার দিক নির্দেশনা নিশ্চিত করা|
☆ কর্মস্থলে কর্মচারীদের ফেস মাস্ক নিশ্চিত করা ও তাদের ব্যবহৃত ফেসমাস্ক যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও ধ্বংস নিশ্চিত করা
● কর্মচারী ,ঠিকাদার ও সেবা গ্রহনকারীদের এই মর্মে অবহিত করা যে,যদি কোভিড -১৯ কোনভাবে তাদের নিজ নিজ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে (হালকা কাশি বা স্বল্প জ্বর ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার সামান্য বেশী )তাহলে তাদেরকে বাড়িতেই থাকতে হবে|এসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাধারণ ঔষুধ যেমন প্যারাসিটামল,এবুপ্রফেন,আ্যাসপিরিন ইত্যাতি গ্রহণ করা যেতে পারে|
☆ যদি কারো কোভিড-১৯ এর খুব সাধারণ লক্ষণগুলো দেখা দেয় তাহলে তাকে অবশ্যই সার্বক্ষনিক ঘরের মধ্যে থাকতে হবে । এ কথা দৃঢ়ভাবে প্রচার করতে হবে।
☆ কর্মস্থলে উপরোক্ত বার্তা সম্বলিত পোস্টার প্রদর্শন করতে হবে!
● সংবেদনশীল এই সময়ে কর্মীদের অসুস্থতা জনিত ছুটি নিশ্চিত করতে হবে|
উপরে উল্লেখিত ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব ॥

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ