আজ ২৪শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

ডোমারে কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ফসলসহ বাড়িঘর লন্ডভন্ড-দৈনিক বাংলার নিউজ

 

বিএস বিদ্যুৎ
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিঃ
চৈত্রের শেষে বৈশাখের আগমন বার্তা নিয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ও কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে আকস্মিক কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ইরি, বোরো ফসল, গাছপালা, ঘরবাড়ী লন্ডভন্ডসহ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (১০ এপ্রিল) বিকালের দিকে বিক্ষিপ্তভাবে জেলার ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ওপর দিয়ে ওই ঝড় বয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঝড়ে প্রায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ী, অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ডোমার উপজেলার চিলাহাটি ভোগডাবুড়ীসহ অনেক এলাকা।

ডোমার উপজেলার চিলাহাটি বাজারে ব্যবসায়ী আশরাফ জানান, হঠাৎ করে বেলা ৩টা ৫৫ মিনিটে বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ ঝড় হানা দেয়। মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট স্থায়ী ওই ঝড়ে চিলাহাটি বাজারের অসংখ্য দোকানপাটের টিনের ছাউনি উড়ে যায়। চিলাহাটি সরকারি কলেজের সামনে ১১ হাজার কেভি বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়লে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গোটা চিলাহাটি এলাকা। ওই ঝড়ে ভোগডাবুড়ী ও কেতকিবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় অন্তত তিন শতাধিক কাচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ী ভেঙ্গে পড়ে। এসময় অসংখ্য গাছপালা রাস্তায় উপড়ে ও ভেঙ্গে পড়ায় যোগাযোগ ও চলাচল ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। একইভাবে উপজেলার গোমনাতী ইউনিয়নের উপর দিয়ে ও এই ঝড় বয়ে গেছে। ওই ঝড়ে ভুট্টা, বাদাম ও তামাক ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
চিলাহাটির ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের কৃষক মফিজার রহমান জানান, আমার ৫ বিঘা জমির ইরি বোরো ধানের ফসল চৈত্রের ঝড়ে ও শিলা বৃষ্টিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
ভোগডাবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম কালু বলেন, ইউনিয়নে চিলাহাটি বাজার, বউবাজার, বোতলগঞ্জ এলাকাসহ চারটি ওয়ার্ডে ব্যাপক ও অপর পাঁচটি ওয়ার্ডে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ঘরবাড়ি পরিদর্শন করে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
ডোমার সদর উপজেলার মোশারফ হোসেন জানান, দুই থেকে তিন মিনিটের ঝড়ে আমার ৩বিঘা জমির তামাক সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি সরকারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি।
একই সময়ে কালবৈশাখী ঝড় ও শীলা বৃষ্টি আঘাত হেনেছে জেলার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া, খগাখড়িবাড়ী, পূর্ব ছাতনাই,গয়াবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশাচাপনী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে। এসব ইউনিয়নে অন্তত এক হাজার কাচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানান জনপ্রতিনিধিরা।

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শাহিনা শবনমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, ঝড় বৃষ্টিতে যাদের ঘরবাড়ী ও জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়ার জন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধিদেরকে অবহিত করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ