আজ ২৪শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

তৈয়্যবশাহ(রহঃ)’র একনিষ্ঠ মুরিদ মমতাজ উদ্দিন’র ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী-দৈনিক বাংলার নিউজ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

মরহুম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন শাহেন শাহ এ ছিরিকোট দরবারের মাশায়েখ হজরত হাফেজ কারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যবশাহ (রহঃ)’র একনিষ্ঠ মুরিদ।যিনি ছিলেন সম্ভ্রান্ত বংশের কৃতীসন্তান,কৃতিত্বপূর্ণে বিএসসি পাস,শিক্ষাবিদ,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,সমাজসেবক,চট্টগ্রাম কলেজ কর্তৃপক্ষ রসায়ন বিভাগে ড্যামুনেস্ট্রেটর হিসেবে চাকুরীসুবিধা গ্রহণের প্রস্তাবসহ,নানাগুনে গুণান্বিত।

তিনি ছিলেন,সহজসরল,সাদাসিধা জীবনযাপন,
ইসলামপ্রিয়,ধর্মীয়বিশ্বাস,নৈতিকতাপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব ও পরম পরোপকারী হিসেবেও ব্যাপক পরিচিত ও আলোচিত ছিলেন এলাকাবাসী ও জনরবে।

মরহুম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী পিতা মরহুম আবুল হোসেন চৌধুরীর সহধর্মিনী মরহুম লজিমা খাতুনের ঔরশে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৪৮ ইংরেজি ৩,নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরির আলকরন,৩১ওয়ার্ডে তাঁর জন্মস্থান।
গ্রামের বাড়ী বাঁশখালি কালিপুর ইজ্জত নগরে।
যা বাঁশখালি কালিপুর ইজ্জত নগরের হজরত বাহাদুর শাহ রহঃ মাজার সংলগ্ন আব্দুল গণি চৌধুরীর বাড়িই মরহুম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরীর বসতভিটা।

ঐ সময়ের ঐ এলাকার পরিচিত আলোচিত ও সম্ভ্রান্ত মরহুম আব্দৃল গনি চৌধুরীর বংশে জন্ম গ্রহণ করেন মরহুম আবুল হোসেন চৌধুরী যার সূযোগ্য সন্তান মরহুম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী । তাঁদের পূর্বসুরী বংশধর,বসতভিটা ও সম্ভ্রান্ত অবস্থান সংক্রান্তে বিবরণ পাওয়া যায়।যার সম্প্রতি ইতিহাস লিখেন কালিপুর ইজ্জত নগরের কালিপুরের কৃতী সন্তান চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী।

সেই বইতে তথ্য ও সূনিপুণ বিবরণে মমতাজ উদ্দিন চৌধুরীর বংশীয় শাজারা বা বংশ পরম্পরা স্থান পায়।মমতাজ উদ্দিন চৌধুরীর বাবা মরহুম আবুল হোসেন চৌধুরী শৈশবে ব্যবসার কাজে কালিপুর ইজ্জত নগর ত্যাগ করে নগরীর নিউমার্কেটের জিপিও সম্মুখে আলকরন নিবাসী হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন পেশাগত জীবনে লোহার ব্যবসা করে শহরে বসতবাড়ি করে নেন।

কালেক্রমে এখানেই জন্ম গ্রহণ করেন মমতাজ উদ্দিনসহ ২ভাই ৬বোন। পরিবারে মমতাজ উদ্দিন ছিলেন সকলের বড়। ছোট দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ভাই মরহুম আরশাদ হোসেন খোকন ১৯৮৬ সালে পাথরঘাটা নিবাসি হাজি জালালের টিসিবি গোডাউনে আম পাড়তে গেলে আলকরণ নিবাসি নুর আহম্মদ স্কুলের দাড়োয়ানের ছেলে বারেকসহ লোমহর্ষক ও নির্মমভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যা করা হয়।

তখনকার চট্টগ্রামে অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর “জোড়া-খুন” শিরোনামে জড়িত “জালাল হাজি” নামে চট্টগ্রামের দৈনিকসহ জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে নিউজ ছাপানো হয়। মামলা কিছুদিন এগিয়ে গেলেও রহৎস্যজনক কায়দায় কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যায় ফাইলের নিচে। ইতিহাসের কাল ছোবলে কুচক্রীদের নীল নকশা আড়ালে।

মমতাজ উদ্দিনের শৈশব কৈশোর ও স্কুল জীবন কাটে “আলকরণ নুর আহম্মদ স্কুলে” প্রাইমারি ও “জে,এম সেন স্কুলে” এস এস সি, এবং পরে চট্টগ্রাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকসহ বিএসসি পাশ করেন কৃতিত্বের সাথে। কলেজ কতৃপক্ষ উনাকে রসায়ন বিভাগে ড্যামুনেস্ট্রেটর হিসেবে চাকুরী করার প্রস্তাব করেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে তিনি তা চাকরির সূযোগ সুবিধা গ্রহণ না করে পৈতৃক ব্যবসা করবে বলে প্রথমে আলকরণে ঔষধের ফার্মাসী এবং পরে পিতার পেশায় লোহার ব্যবসার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

জীবন জীবীকা ও কর্মক্ষেত্রে আলকরণে দীর্ঘ ৫০ বছর বসতি করেন মরহুম আবুল হোসেন চৌধুরী এরি ভেতর উনারা বাঁশখালি কালিপুর ইজ্জত নগরে আসা-যাওয়া করতেন। ইজ্জত নগরে মমতাজ উদ্দিন চৌধুরীর চাচাতো ভাইয়ের সন্তানরা এখোনও আছেন এবং বসবাস করছেন। সেখানে “মরহুম আবুল হোসেন চৌধুরী স্মৃতি সংসদ” নামে একটি সংগঠন করেন মরহুম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে “মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশন” র চেয়্যারম্যান শাহাদাত হোসেন চৌধুরী রুমেল।

প্রয়োজন কারণে এখোনোও তিনি বাড়ীর,সামাজিক ধর্মীয়,সেচ্ছাসেবী ও নানান আচার অনুষ্ঠানে যোগদানসহ বাহাদুর শাহ (রহঃ)ওরশে ডোনেশন করে থাকেন। রমজানের আগে এলাকার গরীব ও দুঃস্থদের সাহায্য ও সহযোগিতাও করে থাকেন মরহুম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশন। গতবছর কালিপুর ইজ্জত নগরের সমাজের ৫০ ঘরকে কোরবানির গোসতো দেন মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশন।

এছাড়া শীতকালে দেশব্যাপী অসহায়,সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মাঝে ৫৫০ জনকে শীতবস্ত্র দেয়া হয়। যা চট্টগ্রাম জেলাসহ সিলেট,কক্সবাজার ও রাজধানীর মুহাম্মদপুর কাদেরীয়া মাদরাসায়। সাতকানিয়া ও আনোয়ারায় গত বছর এক অসহায় বিধবাসহ ২ পরিবারকে ঘরনির্মাণের নগদ টাকাসহ একটা নলকূপ প্রদান করছেন মমতাজ উদ্দিন ফাউন্ডেশন।

এছাড়াও এই ফাউন্ডেশন গতবছর জনস্বার্থ ও সেবায় বেশ কিছু জনকল্যাণ ও সেবামূলক পদক্ষেপও নেয়। যা সত্যিই প্রশংসনীয় ও আলোচিত হয়েছে বিশিষ্টজন,মানবিক,সেচ্ছাসেবী সংগঠন,অনলাইন,প্রিন্ট,ইলেকট্রিক মিডিয়াসহ গণমাধ্যমসহ দেশজুড়ে মানুষের মুখে মুখে।

এই ফাউন্ডেশন জনস্বার্থ ও সেবায় বেশ কিছু জনকল্যাণ ও সেবামূলক পদক্ষেপও নেয়,যেমন মরহুম চট্টলবীর আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্বরণে ১-১৫ ডিসেম্বর ১৫ দিন ব্যাপী চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্পটে ও মাদরাসা এতিমখানার ছাত্রদের মাঝে ১৮০০ প্যাকেট খাবার বিতরণ করেন।

মরহুম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী বাই লেইন নামে পরিচিত পশ্চিম বাকলিয়াস্থ ইউনুস সড়কে একটি লেইন রয়েছে। এই লেইনে মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অত্র এলাকার বৃহৎস্বার্থে ও সার্বিক নিরাপত্তার খাতিরে দুটি সিসিটিভি স্থাপন করে দেয় গত ফেব্রুয়ারিতে। বৃহৎস্বার্থে ও সার্বিক নিরাপত্তায় যা কিনা একটি নতুন মাত্রার সুচনা করল অত্র এলাকায়। মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের যা সত্যি প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ।

গত ১০ এপ্রিল২২ইং শনিবার পঃ বাকলিয়ার ভরাপুকুরস্থ ৩০০ পরিবারকে ইফতার সামগ্রী প্রদান করছেন ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা দেশবরেণ্য চট্টগ্রামের প্রাণপূরুষ চট্টলাবীরের কৃতিসন্তান,
সূর্যসন্তান,উদীয়মান কন্ঠস্বর,মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

গত জানুয়ারীতে নগরীর ৪৫০০ জনকে করোনা টিকা প্রদান করেন সিভিল সার্জন চট্টগ্রামের তত্বাবধানে।যার কার্যক্রমের স্থান নির্ধারণ করা হয় পশ্চিম বাকলিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ