আজ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

জেলা পরিষদ নির্বাচন বাতিলের দাবিতে সদস্য প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন-দৈনিক বাংলার নিউজ

ফাহিম ফরহাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সদস্য প্রার্থী আব্দুল হাকিম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সম্পন্ন হওয়া নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে পুনঃগণনার দাবি জানান। সোমবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে জেলা শহরের সোনার মোড়স্থ নিজস্ব অফিসে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন, গত ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদের ০১ নম্বর ওয়ার্ডের (সদর উপজেলা) সদস্য প্রার্থী আব্দুল হাকিম।

নির্বাচন বাতিল ও ভোট পুনঃগননার দাবিতে আদালতের শরণাপন্ন হবেন বলে জানান তিনি। জেলা নির্বাচন অফিসে অভিযোগ জানিয়ে যোগাযোগ করা হলেও কোন সুরাহা পায়নি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের ০১ নম্বর ওয়ার্ডের মোট সাতজন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী ছিলাম আমি। কিন্তু ফলাফল ঘোষণায় আমার ভোট সংখ্যা মাত্র ৭২টি ও বিজয়ী প্রার্থীকে ১২৪টি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে এনিয়ে অনুসন্ধানে দেখতে পাই, জেলা পরিষদের নির্বাচনের পাবলিক রেজাল্ট সিটে কিউআর কোডে এনক্রিপ্টটেড তথ্য খালি অর্থাৎ প্রকাশিত নির্বাচনের ফলাফল টেম্পারিং করা হয়েছে। তাই নির্বাচনকালীন সময়ের তথ্য সংরক্ষিত মেমোরিকার্ড হতে নির্বাচনের ফলাফলের সঠিক তদন্ত ও ফলাফল পুনঃগণনার মাধ্যমে সঠিক ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হাকিম বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে নির্বাচনের ফলাফল কারচুপি করেছে। নির্বাচনের সময়ে ও তার আগে ভোটারদেরকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দিয়েছে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল জলিল ও তার লোকজন। এমনকি তার পক্ষে ভোটের দিনেও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বাচন কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোখলেসুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, ভোটের পরের দিনই জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এনিয় অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোন সুরাহা না পেয়ে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি। আদালতের শরণাপন্ন হব, এনিয়ে প্রস্তুতি চলছে।

এবিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান মুঠোফোনে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ভোটগ্রহণের দিনে প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারকে অভিযোগ দিতে হতো। কিন্তু আমার জানামতে, কোন প্রার্থী তা করেননি। এখন অভিযোগ নেয়ার বিষয়ে এই মুহুর্তে আমাদের তেমন আর কোন করনীয় নেই।

তিনি আরও বলেন, ভোট গ্রহণের ৩০ দিনের মধ্যে যেকোন অভিযোগ নিয়ে যেকোন প্রার্থী আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। আদালতের নির্দেশনা পেলে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচন। সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের ২টি সংরক্ষিত ও ৫টি সাধারণ ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোতাওয়াক্কিল রহমান জানান, ৫টি সাধারণ ও ২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের জন্য ৫ জন প্রিজাইডিং, ১০ জন সহকারী প্রিজাইডিং এবং ২০ জন পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে ভোটগ্রহণ করেন। জেলার ৫টি উপজেলায় ৫টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২০ জন এবং ২টি সংরক্ষিত আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে ০১ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে (সদর উপজেলা) আব্দুল জলিল বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে ১২৪ ভোট পেয়ে সদস্য নির্বাচিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ