আজ ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

৪ লাখ টাকার সীমানা প্রাচীরে নেই একটিও ইট, মাটির বদলে ছাই দিয়ে গর্ত ভরাট-দৈনিক বাংলার নিউজ

এসএম রুবেল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. নাসরিন আক্তারের বিরুদ্ধে ৪ লাখ টাকার কাজ ৪ হাজারে শেষ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা পরিষদ থেকে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার- কাবিটা কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প দেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় একটি ফুটবল মাঠ ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল। ২ লাখ টাকার প্রকল্পটি ২০২০-২১ অর্থবছরে শেষ হয়েছে। জানা যায়, একই জায়গায় ফুটবল মাঠ ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকার আরও একটি প্রকল্প দেয়া হয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে।

দুটি প্রকল্পই দেয়া হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে। জানা যায়, প্রকল্প দুটি অনুমোদন দেয়া হয় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসা. নাসরিন আখতারের নামে। সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের ঘুঘুডিমা সুইচগেট ফুটবল মাঠ ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বাবদ দুটি প্রকল্প মোট ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়।

শেষ হওয়া ৪ লাখ টাকার ফুটবল মাঠ ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রকল্পে সরেজমিনে গিয়ে চোখ কপালে উঠবে যে করোর। ৪ লাখ টাকার দুটি প্রকল্পের কাজ অনেক আগেও শেষ হলেও সেখানে গিয়ে একটিও ইট খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি মাটি দিয়ে গর্ত ভরাট করার কথা থাকলেও মোট সীমানার প্রায় অর্ধেক ভরাট করা হয়েছে। তাও আবার মাটির বদলে অটোরাইস মিলের পরিত্যক্ত ছাই দিয়ে।

স্থানীয়রা বলছেন, গত দুই বছরে সুইচগেট ফুটবল মাঠের পশ্চিম প্রান্তে থাকা গর্তে প্রায় ১৫০-২০০ টাক্ট্রর পরিত্যক্ত ছাই ফেলা হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৪০ দিনের কর্মসূচির শ্রমিকদের দিয়ে মাটি বিছিয়ে ছাই ডাকা হয়েছে। যাতে উপর থেকে ছাই দেখা না যায়। এমনভাবে ছাইয়ের উপর মাটি বিছানো হয়েছে, দেখলে মনে হবে মাটি দিয়ে ভরা করা হয়েছে। স্থানীয়দের এই অভিযোগের সত্যতা মিলে কোদাল দিয়ে মাটিতে কোপ মারলে। মাটির ৪-৫ ইঞ্চি নিচেই দেখা যায়, সবই ছাই।

স্থানীয় গৃহিনী রোকসানা বেগম (ছদ্মনাম) বলেন, সুইচগেট ফুটবল মাঠের পশ্চিম পাশের পুরো মাঠে খাল ছিল। পুরোটাই ভরাট করার কথা থাকলেও অর্ধেক জায়গায় ছাই দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। বাকি জায়গা এখনও ফাঁকা আছে। ছাই ঢাকতে মাটি ছিটানো হয়েছে। মাটির নিচে পুরোটাই ছাই আছে। কাজটি সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আখতার করেছে। তার বাড়ি মাঠের পাশেই বলে জানান তিনি।

ঘুঘুডিমা গ্রামের যুবক মাসুম আলী জানান, জন্মের পর থেকেই দেখছি স্থানীয় ছেলেরা এই মাঠে খেলাধুলা করে। কিন্তু মাঠের পাশে কিছু অংশ গর্ত ছিল। তাতে সারাবছর পানি জমে থাকতো। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আখতার উপজেলা থেকে বরাদ্দ নিয়ে গর্ত ভরাটের কাজ শুরু করেন। শুরু থেকেই ছাই দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। তবে এতে কি পরিমান সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তা আমরা জানি না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, শুনেছি উপজেলা পরিষদ থেকে সরকারি বরাদ্দ দিয়ে খেলার মাঠের গর্তটি ভরাট কাজ করা হচ্ছে। আমার জানা নাই, সরকারি কোন বরাদ্দ পরিত্যক্ত ছাই দিয়ে করা হয়। আবার ছাই ঢাকতে উপরে মাটি ছিটানো হয়েছে। সদর উপজেলার আতাহারে থাকা অটোরাইস মিলের ছাইগুলো তারা নিজেরাই ফেলে যায়। ট্রাক্টরের ড্রাইভারকে ৫০-১০০ টাকা চা খরচ দিলেই, যেখানে বলবেন সেখানেই তারা ছাই ফেলে যাবে।

এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আখতার জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিষেধ করার কারনে সেখানে সীমানা প্রাচীর দেয়া হয়নি। তবে গর্তের বেশিরভাগই ভরাট দেয়া হয়েছে ছাই দিয়ে। কারন অনেক বড় গর্ত ছিল মাঠের পাশে। এমনকি ট্রাক্টর প্রতি ড্রাইভারদেরকে চাই নিতে ১০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে। বড় গর্ত তাই মাটির পাশাপাশি ছাই দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এখন আরও জায়গায় মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

তবে স্থানীয়রা জানান, ফুটবল মাঠের পশ্চিম পাশে প্রায় ১৫০ ফিট জায়গাজুড়ে ৩-৫ ফিট গভীরতায় গর্ত ছিল। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মওদুদ আলম খাঁর অফিসে গিয়ে তার কাছে সুইচগেট ফুটবল মাঠের সীমান প্রাচীর নির্মাণ ও গর্ত ভরাট প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলেন। পরে মুঠোফোনে মওদুদ আলম খাঁ বলেন, সীমানা প্রাচীর দেয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকায়, সেখানে তা দেয়া হয়নি৷

তবে ছাই দিয়ে গর্ত ভরাটের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী ছাই দিয়ে ভরাটের কোন সুযোগ নেই। মাটি দিয়েই ভরাট করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের বাইরের কিছু অংশ ভরাট করতে গিয়ে ছাই দেয়া হতে পারে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান জানান, সুইচগেট ফুটবল মাঠ ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে তেমম কোন খবর জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ