আজ ১৬ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেল অটিজম আক্রান্ত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-দৈনিক বাংলার নিউজ

 

ফাহিম ফরহাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ

ছবি এঁকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেল অটিজমে আক্রান্ত সোহেল, জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন সোহেল রানা সাফির হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন অটিজম আক্রান্ত শিশু সোহেল রানা সাফি গ্রামীণ দৃশ্যপটের ওপর একটি ছবি এঁকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিবন্ধী শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে সম্প্রতি অনলাইনের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সংগঠন ডিজঅ্যাবল্ড পিপলস ইন্টারন্যাশনাল (ডিপিআই) একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ওই প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ কোরিয়া প্রথম, দ্বিতীয় চীন এবং বাংলাদেশের অটিজম শিশু মো. সোহেল রানা সাফি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

অটিজমে আক্রান্ত সোহেল জেলার সদর উপজেলার বারঘরিয়ার মো. মাইনুল ইসলামের ছেলে এবং সুইড বাংলাদেশ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার ছাত্র। গত বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর ২০২২খ্রি.) জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান সোহেল রানা সাফির হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন।

সুইড বাংলাদেশ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আম্বিয়া খাতুন মিলি সাংবাদিকদের জানান, একই বিদ্যালয়ে তিনজন শিশুর বিভিন্ন ধরনের ছবি পাঠানো হয়েছিল। ডিপিওডি নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইনে ছবিগুলো পাঠিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা হয়। দুই মাস আগে অংশ নেওয়া প্রতিযোগিতায় সাফির আঁকা গ্রামীণ দৃশ্যের ছবিটি মনোনীত হয় এবং সাফি বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় স্থান অর্জনে সক্ষম হয়। পরে কয়েকদিন পর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পুরস্কার ও সনদপত্র বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৬০ দেশের অংশগ্রহণে হওয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করা দেশের জন্য সেই সাথে চাঁপাইননাবগঞ্জ জেলা বাসির জন্য একটি বড় সাফল্য। এই পুরস্কার একদিকে যেমন আমাদের ও অভিভাকদেরকে উৎসাহ দেবে তেমনি বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে আরও উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপন করবে নিশ্চয়ই।

সোহেলের বাবা মাইনুল ইসলাম পেশায় ফলের দোকানদার। মাইনুল ইসলাম ছেলের সাফল্যের বিষয়ে বলেন, সাফি মূলত অটিস্টিক শিশু। ঠিকমতো চলফেরাও করতে পারে না। বাড়িতে অবসর সময়ে বিভিন্ন ছবি আঁকতে ভালোবাসে। এভাবে ছবি আঁকতে আঁকতে সে এখন ভালো পারদর্শী হয়ে গেছে। পরে স্কুলের ম্যাডাম একটি প্রতিযোগিতার কথা বললে সে একটি গ্রামীণ জনপদের ছবি এঁকে দেয়। পরে এই ছবিটিই দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগীতায় পুরস্কার পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই সাফল্যে আমি ও আমার পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত। তবে এসকল শিশুদের জন্য সরকারের আরও সহযোগিতা পেলে আরও বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব বলে মনে করেন।

পুরস্কার প্রদানের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডিপিওডি’র চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। এ বিষয়ে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সংগঠন ডিজঅ্যাবল্ড পিপলস ইন্টারন্যাশনাল (ডিপিআই) সকল ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৬০টি দেশের বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধীদের আঁকা ছবি প্রদর্শন করা হয়। তাতে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নামটি যুক্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ